প্রস্তাব ০১ — দেওয়ানি মামলার জট: পূর্ব-মধ্যস্থতা কাজ করছে, এবার প্রশ্ন হলো এরপর কী
এটি সংস্কার প্রস্তাব সিরিজের প্রথম লেখা। প্রতিটি প্রস্তাব একই সাত-দফা কাঠামোয় লেখা: সমস্যা, এখন কী ঘটে, খরচ, প্রস্তাব, কে করবে কোন আইনে, কী আপত্তি আসবে, আর প্রথম ধাপ।
একটা কথা শুরুতেই বলে নিই। এই লেখাটা লিখতে বসেছিলাম একটা প্রস্তাব নিয়ে: দেওয়ানি মামলায় বাধ্যতামূলক পূর্ব-মধ্যস্থতা চালু করা হোক। খোঁজ নিতে গিয়ে দেখলাম, সেটা ইতিমধ্যেই চালু হয়ে গেছে। আর প্রাথমিক ফলাফল রীতিমতো চমকে দেওয়ার মতো।
তাই প্রস্তাবটা বদলে গেল। প্রশ্ন এখন আর “শুরু করা হোক কি না” নয়। প্রশ্ন হলো, যেটা কাজ করছে সেটাকে কীভাবে সারা দেশে নেওয়া যায়, আর কোথায় সাবধান থাকতে হবে।
১. সমস্যাটা কী
আইনমন্ত্রীর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত দেশের আদালতগুলোতে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ৪৬ লাখ ৩৯ হাজার ৪৭৬। এর মধ্যে অধস্তন আদালতেই ৪০ লাখ ৭৮ হাজার ৪৩২টি।
একটা সংখ্যাই যদি মনে রাখতে হয়, সেটা এই: অধস্তন আদালতে ৩ লাখ ৭৭ হাজারের বেশি দেওয়ানি মামলা পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে ঝুলে আছে।
পাঁচ বছর। একটা জমির সীমানা নিয়ে বিরোধ, একটা ওয়ারিশি ভাগাভাগি, একটা বাড়িভাড়ার ঝামেলা। এগুলোর কোনোটাই আইনগতভাবে জটিল নয়। তবু পাঁচ বছর।
২. এখন কী ঘটে
মধ্যস্থতা আমাদের আইনে নতুন কিছু নয়। দুটো আলাদা ব্যবস্থা এখন পাশাপাশি চলছে, আর দুটোর পার্থক্য বোঝাটা জরুরি।
মামলা দায়েরের পরের মধ্যস্থতা
দেওয়ানি কার্যবিধি, ১৯০৮-এর ৮৯ক ধারা। ২০১২ সালের সংশোধনীতে “পারিবেন” বদলে “করিবেন” করা হয়, অর্থাৎ এটি বাধ্যতামূলক হয়ে যায়। লিখিত জবাব দাখিলের পর আদালত শুনানি মুলতবি রেখে মধ্যস্থতায় পাঠাবেন। মধ্যস্থতাকারী হতে পারেন লিগ্যাল এইড অফিসার, পক্ষদের নিযুক্ত আইনজীবীদের সম্মতিতে মনোনীত কেউ, অথবা জেলা জজের প্যানেলভুক্ত অবসরপ্রাপ্ত বিচারক বা প্রশিক্ষিত মধ্যস্থতাকারী। সময়সীমা ৬০ দিন, প্রয়োজনে আরও ৩০ দিন। নিষ্পত্তি না হলে মামলা আগের জায়গা থেকে আবার শুরু হয়।
কাগজে ভালো। বাস্তবে এর প্রভাব সীমিত থেকেছে। কারণটা কাঠামোগত: ততক্ষণে মামলা দায়ের হয়ে গেছে, কোর্ট ফি দেওয়া হয়ে গেছে, আইনজীবী নিয়োগ হয়ে গেছে, আর দুই পক্ষ প্রকাশ্যে অবস্থান নিয়ে ফেলেছে। এই পর্যায়ে পিছিয়ে আসা মানে হার স্বীকার করা। মানুষ সেটা করতে চায় না।
মামলা দায়েরের আগের মধ্যস্থতা
এখানেই নতুন ব্যবস্থাটা এসেছে। নির্দিষ্ট কিছু ধরনের বিরোধে এখন আদালতে যাওয়ার আগে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে মধ্যস্থতার চেষ্টা করা বাধ্যতামূলক। নিষ্পত্তি হলে সেটি ডিক্রির মর্যাদা পায়। না হলে চেষ্টা করা হয়েছে মর্মে প্রমাণ নিয়ে মামলা করা যায়।
সাতটি শ্রেণির বিরোধ এর আওতায়: পারিবারিক আদালত আইনের মামলা, প্রিমাইসেস রেন্ট কন্ট্রোল আইনের মামলা, বাটোয়ারা, রাষ্ট্রীয় অধিগ্রহণ ও প্রজাস্বত্ব আইনের ৯৬ ধারার অগ্রক্রয়, অকৃষি প্রজাস্বত্ব আইনের ২৪ ধারার অগ্রক্রয়, পিতামাতার ভরণপোষণ, আর যৌতুক-সংক্রান্ত মামলা।
২০টি জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হয়ে ২০২৬ সালের ২১ জুলাই আরও ১০টি জেলায় এটি সম্প্রসারিত হয়েছে: বগুড়া, ঠাকুরগাঁও, পটুয়াখালী, ভোলা, নাটোর, যশোর, শরীয়তপুর, কক্সবাজার, পঞ্চগড় ও টাঙ্গাইল।
ফলাফল
পাইলট জেলাগুলোতে ওই সাত শ্রেণির মামলা ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত দায়ের হয়েছিল ১১ হাজার ২৮০টি। ২০২৬ সালের একই সময়ে সেটি নেমে এসেছে ৪ হাজার ২৮৪-তে। কমেছে ৬২.০২ শতাংশ।
শ্রেণিভিত্তিক হিসাবটাও দেখার মতো। পারিবারিক আদালতের মামলা ৩,৫৫৯ থেকে ১,৭৪৪, প্রায় ৫১ শতাংশ কম। বাটোয়ারা মামলা ২,০০১ থেকে ৬৬১, ৬৭ শতাংশ কম। যৌতুক নিরোধ আইনের মামলা ৫,৬০৫ থেকে ১,৮১০, ৬৮ শতাংশ কম।
এই সংখ্যাগুলো নিয়ে একটা সতর্কতা এখনই বলে রাখা দরকার, কারণ এটাই এই লেখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কথা। মামলা দায়ের ৬২ শতাংশ কমা আর বিরোধ ৬২ শতাংশ মিটে যাওয়া এক জিনিস নয়। কিছু মানুষ নিশ্চয়ই মধ্যস্থতায় সমাধান পেয়েছেন। কিন্তু কিছু মানুষ হয়তো একটা বাড়তি ধাপ দেখে হাল ছেড়ে দিয়েছেন। এই দুইয়ের পার্থক্য না জেনে সাফল্য ঘোষণা করা ঠিক হবে না।
৩. এতে খরচ কত
জট নিয়ে আলোচনায় আমরা সাধারণত মামলার সংখ্যা বলি। কিন্তু সংখ্যাটা কার কী খরচ করছে, সেটা আলাদা করে না দেখলে জরুরি ভাবটা তৈরি হয় না।
মামলাকারীর। কোর্ট ফি, আইনজীবীর ফি, প্রতিটা তারিখে আদালতে যাওয়ার যাতায়াত, আর সবচেয়ে বড় খরচ, হারিয়ে যাওয়া কর্মদিবস। একজন দিনমজুর বা ছোট দোকানদারের জন্য প্রতিটা তারিখ মানে একদিনের রোজগার শেষ। পাঁচ বছরে তারিখ পড়ে ডজনখানেক।
রাষ্ট্রের। বিচারকের সময়, আদালতের সময়, নথি ব্যবস্থাপনার খরচ। একজন বিচারক যত ঘণ্টা একটা বাটোয়ারা মামলার তারিখ দিতে ব্যয় করেন, তত ঘণ্টা অন্য মামলা থেকে বাদ যায়।
অর্থনীতির। এটাই সবচেয়ে কম আলোচিত। বিরোধে আটকে থাকা জমি বিক্রি হয় না, বন্ধক রাখা যায় না, তার ওপর ঘর তোলা যায় না। কার্যত সেই সম্পদটা অর্থনীতি থেকে বেরিয়ে যায়। সাড়ে তিন লাখের বেশি দেওয়ানি মামলা পাঁচ বছরের বেশি ঝুলে থাকা মানে বিপুল পরিমাণ পুঁজি নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে আছে।
একজন উদ্যোক্তা যখন বলেন দেশে ব্যবসা করা কঠিন, তিনি প্রায়ই এই জিনিসটার কথাই বলছেন। চুক্তি বলবৎ করতে যদি পাঁচ বছর লাগে, তাহলে চুক্তির দাম কমে যায়। আর চুক্তির দাম কমলে বিনিয়োগের হিসাবও বদলে যায়।
৪. প্রস্তাব
পাইলট কাজ করছে। প্রস্তাব তাই নতুন কিছু শুরু করার নয়, যেটা চলছে সেটাকে ঠিকভাবে বড় করার।
- সারা দেশে সম্প্রসারণ, প্রকাশ্য সময়সূচিসহ। সরকার ছয় মাসের মধ্যে বাকি জেলাগুলোতে নেওয়ার কথা বলেছে। প্রতি মাসে কোন জেলা যুক্ত হলো তা গেজেটে ও ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হোক, যাতে সময়সূচি থেকে সরে গেলে সেটা দেখা যায়।
- শ্রেণির তালিকা ধাপে ধাপে বাড়ানো। পরবর্তী সবচেয়ে যৌক্তিক প্রার্থী হলো নির্দিষ্ট মূল্যসীমার নিচের চুক্তি ও অর্থ আদায়ের মামলা, আর ভোক্তা-সংক্রান্ত ছোট বিরোধ। এগুলোতে ঘটনা নিয়ে বিতর্ক কম, হিসাব নিয়ে বিতর্ক বেশি। মধ্যস্থতা এ ধরনের বিরোধেই সবচেয়ে ভালো কাজ করে।
- মধ্যস্থতাকারীর সক্ষমতা আগে, সম্প্রসারণ পরে। ৩০ জেলায় যা সামলানো যায়, ৬৪ জেলায় আরও বেশি শ্রেণির মামলা নিয়ে তা যাবে না। প্রয়োজন একটা স্থায়ী প্যানেল, ন্যূনতম প্রশিক্ষণের মান, নিবন্ধন, আর নির্দিষ্ট সম্মানী। প্রশিক্ষণহীন মধ্যস্থতাকারী দিয়ে সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে ধীরে যাওয়া ভালো।
- দুর্বল পক্ষের সুরক্ষা লিখিতভাবে। পারিবারিক, যৌতুক ও ভরণপোষণের মামলায় দুই পক্ষের দরকষাকষির ক্ষমতা প্রায়ই সমান নয়। প্রতিটি নিষ্পত্তিতে মধ্যস্থতাকারীর লিখিত প্রত্যয়ন থাকুক যে পক্ষ স্বাধীনভাবে সম্মতি দিয়েছেন, আইনি পরামর্শের সুযোগ পেয়েছেন, এবং চাপে পড়ে রাজি হননি। প্রয়োজনে নারীর পক্ষে আলাদা বসার ব্যবস্থা রাখা হোক।
- তথ্য প্রকাশ, প্রতি মাসে, জেলাভিত্তিক। কতগুলো আবেদন এসেছে, কতগুলো নিষ্পত্তি হয়েছে, গড়ে কত দিনে, আর কতগুলো ব্যর্থ হয়ে পরে মামলায় গড়িয়েছে। শেষ সংখ্যাটাই সবচেয়ে জরুরি, কারণ ওটা ছাড়া বোঝার উপায় নেই মানুষ সমাধান পাচ্ছে না হাল ছাড়ছে।
৫. কে করবে, কোন ক্ষমতাবলে
এই প্রস্তাবের সবচেয়ে সুবিধাজনক দিক হলো, এর জন্য নতুন আইন লাগে না।
পূর্ব-মধ্যস্থতার আইনি ভিত্তি ইতিমধ্যেই আছে লিগ্যাল এইড সার্ভিসেস আইনের সংশোধনীতে, আর বাস্তবায়ন করছে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা ও জেলা লিগ্যাল এইড অফিসগুলো।
- জেলা ও শ্রেণি বাড়ানো যায় প্রজ্ঞাপন ও বিধির মাধ্যমে, নতুন আইন ছাড়াই
- মধ্যস্থতাকারীর প্যানেল, প্রশিক্ষণ ও সম্মানী নির্ধারণ প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত
- তথ্য প্রকাশের জন্য কোনো আইনি অনুমোদনই লাগে না, শুধু সিদ্ধান্ত লাগে
- দেওয়ানি কার্যবিধির ৮৯ক ধারার সঙ্গে সমন্বয়ের প্রশ্নে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনা সহায়ক হবে
অর্থাৎ যা যা করার আছে তার প্রায় সবটাই মন্ত্রণালয় ও সংস্থার নিজস্ব ক্ষমতার ভেতরে।
৬. কী কী আপত্তি আসবে
নিজের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে সবচেয়ে শক্ত যুক্তিগুলো নিজেই তুলে ধরা দরকার। না হলে আলোচনাটা এক তরফা হয়ে যায়।
আপত্তি ১: “মামলা কমেছে, কিন্তু বিচার কি পেয়েছে?”
এটাই সবচেয়ে ধারালো আপত্তি, এবং এর একটা অংশ অকাট্য। দায়ের কমা মানেই বিরোধ মেটা নয়। বাড়তি একটা ধাপ, অফিসে যাওয়া-আসা, সময় নষ্ট, এসব দেখে দুর্বল পক্ষ হাল ছেড়ে দিতে পারেন। বিশেষ করে যাঁর হাতে সময় কম আর টাকা কম।
এর উত্তর অস্বীকার নয়, পরিমাপ। নিষ্পত্তির হার, নিষ্পত্তির গড় সময়, আর ব্যর্থ হয়ে মামলায় গড়ানোর হার, এই তিনটা তথ্য প্রকাশ করলেই বোঝা যাবে কোনটা ঘটছে। তথ্য প্রকাশের প্রস্তাবটা তাই আলংকারিক নয়, ওটাই পুরো প্রস্তাবের যাচাইয়ের উপায়।
আপত্তি ২: “মধ্যস্থতা দুর্বল পক্ষকে চাপে ফেলবে”
বাস্তব ঝুঁকি, এবং পারিবারিক ও যৌতুকের মামলায় সবচেয়ে বেশি। আদালতের আনুষ্ঠানিকতার একটা সুরক্ষামূলক দিক আছে; সেখানে নিয়ম আছে, নথি আছে, আপিল আছে। মধ্যস্থতার ঘরে সেসবের অনেকটাই নেই। ক্ষমতার ভারসাম্যহীনতা সেখানে সহজে কাজ করতে পারে।
এজন্যই প্রস্তাবের চার নম্বর পয়েন্টটা ঐচ্ছিক নয়। স্বাধীন সম্মতির লিখিত প্রত্যয়ন, আইনি পরামর্শের সুযোগ, আলাদা বসার ব্যবস্থা, আর নিষ্পত্তির শর্ত অস্বাভাবিক হলে সেটি পুনর্বিবেচনার সুযোগ। সুরক্ষা ছাড়া সম্প্রসারণ হলে সংখ্যা বাড়বে, ন্যায়বিচার নয়।
আপত্তি ৩: “৮৯ক ধারা তো আছেই, আরেকটা স্তর কেন”
আছে, কিন্তু কাজ করছে না, আর কেন করছে না সেটা কাঠামোগত। ৮৯ক ধারার মধ্যস্থতা শুরু হয় মামলা দায়েরের পরে। ততক্ষণে খরচ হয়ে গেছে, অবস্থান নেওয়া হয়ে গেছে, আর পিছিয়ে আসা মানে হার মানা। পূর্ব-মধ্যস্থতা কাজ করে ঠিক আগের মুহূর্তে, যখন কেউ এখনও কিছু হারায়নি।
তবে আপত্তির ভেতরে একটা সত্যি আছে। দুটো ব্যবস্থা একসঙ্গে চললে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। কোন মামলা কোন পথে যাবে, দুই জায়গায় একই বিরোধ ঘুরপাক খাবে কি না, এসব স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে ঠিক করা দরকার। না করলে ধাপ কমার বদলে বাড়বে।
৭. প্রথম ধাপ: ৯০ দিনে কী করা সম্ভব
নতুন আইন ছাড়া, নতুন বাজেট ছাড়া, এই তিনটা কাজ শুরু করা যায়।
- একটা জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত ড্যাশবোর্ড। চালু ৩০ জেলার মাসভিত্তিক তথ্য এক পাতায়: আবেদন, নিষ্পত্তি, গড় সময়, আর ব্যর্থতার হার। বানাতে কয়েক সপ্তাহ লাগে।
- মধ্যস্থতাকারীদের জন্য ন্যূনতম প্রশিক্ষণের মান ঘোষণা, এবং প্রথম ব্যাচের প্রশিক্ষণ শুরু, যাতে সম্প্রসারণের সময় লোক প্রস্তুত থাকে।
- দুর্বল পক্ষের সুরক্ষা-প্রত্যয়নপত্রটি চালু করা, বিদ্যমান ৩০ জেলাতেই, বিধির সংশোধন ছাড়াই প্রশাসনিক নির্দেশনায়।
তিনটার একটাও সংসদে যেতে হবে না।
শেষ কথা
এই লেখাটা লিখতে বসে যেটা ভাবছিলাম, শেষ পর্যন্ত সেটা লিখতে পারিনি। কারণ প্রস্তাবটা আগেই বাস্তবায়িত হয়ে গেছে, আর ফলাফল ভালো।
এটা স্বীকার করাটা জরুরি বলে মনে করি। রাষ্ট্রের সমালোচনা করা আমাদের অভ্যাস হয়ে গেছে এমনভাবে, যে ভালো কিছু হলে সেটা বলতে অস্বস্তি লাগে। অথচ কোনটা কাজ করেছে সেটা চিহ্নিত করতে না পারলে পরেরটা কীভাবে করব?
তাই প্রস্তাব ০১ শেষ পর্যন্ত দাঁড়াল এভাবে: ভালো একটা জিনিস শুরু হয়েছে, এখন সেটা তাড়াহুড়ো না করে, মান ঠিক রেখে, আর সংখ্যা প্রকাশ করতে করতে বড় করা হোক। আর যদি তথ্য দেখায় মানুষ সমাধান পাচ্ছে না বরং হাল ছাড়ছে, তাহলে সেটাও স্বীকার করে পথ বদলানো হোক।
সংশোধনী
এই প্রস্তাবে পাঠকের যুক্তিতে কিছু বদলালে তারিখসহ এখানে যোগ করা হবে। এখন পর্যন্ত কোনো সংশোধনী নেই।
এই লেখাটি সাধারণ আলোচনা ও মতামত, কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে আইনি পরামর্শ নয়। এটি পড়ার মাধ্যমে আইনজীবী-মক্কেল সম্পর্ক তৈরি হয় না। পরিসংখ্যানগুলো প্রকাশিত সংবাদ ও সরকারি বক্তব্য থেকে নেওয়া, প্রকাশের তারিখ পর্যন্ত হালনাগাদ। আইন ও বিধি সময়ে সময়ে বদলায়।

অ্যাকাউন্ট থাকলে প্রতিবার তথ্য লিখতে হয় না, আর মন্তব্য সঙ্গে সঙ্গে প্রকাশিত হয়। লগইন বা নিবন্ধন করুন