প্রস্তাব ০২ — ব্যবসা নিবন্ধন ৭২ ঘণ্টায়: আইনে সময়সীমা আছে, বাস্তবে নেই কেন

সংস্কার প্রস্তাব সিরিজের দ্বিতীয় লেখা। প্রতিটি প্রস্তাব একই সাত-দফা কাঠামোয় লেখা: সমস্যা, এখন কী ঘটে, খরচ, প্রস্তাব, কে করবে কোন আইনে, কী আপত্তি আসবে, আর প্রথম ধাপ।

ব্যবসা নিবন্ধনের জটিলতা নিয়ে আলোচনা সাধারণত এক জায়গায় গিয়ে থামে: আইন করে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হোক। প্রস্তাবটি যুক্তিসঙ্গত শোনায়। সমস্যা হলো, সময়সীমা ইতিমধ্যেই বাঁধা আছে।

ওয়ান স্টপ সার্ভিস আইন, ২০১৮-এর অধীনে প্রণীত বিধিমালায় স্পষ্ট করে বলা আছে, নাম ছাড়পত্র, নিবন্ধন সনদ, ব্যবসা শুরুর সনদ এবং ট্রেড লাইসেন্স এক দিনের মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে। সংঘস্মারক ও সংঘবিধি অনুমোদনের জন্য নির্ধারিত সময় তিন দিন। অর্থাৎ কাগজে-কলমে বাংলাদেশে কোম্পানি নিবন্ধনের সময়সীমা ৭২ ঘণ্টা নয়, তার চেয়েও কম।

বাস্তবে সময় লাগে দুই থেকে তিন সপ্তাহ।

এই ফাঁকটিই এই লেখার বিষয়। প্রশ্নটি আইন প্রণয়নের নয়, প্রণীত আইন কার্যকর না হওয়ার।


১. সমস্যাটা কী

বিশ্বব্যাংকের বি-রেডি সূচকে বাংলাদেশের অবস্থান ৫০টি অর্থনীতির মধ্যে ২৯তম। সূচকটির তিনটি স্তম্ভে বাংলাদেশের নম্বর সমান নয়, আর সেই অসামঞ্জস্যই সবচেয়ে তথ্যবহুল। পরিচালনগত দক্ষতায় নম্বর ৭০ দশমিক ৪৯, নিয়ন্ত্রণ কাঠামোয় ৫৬ দশমিক ৯৯, আর সরকারি সেবায় মাত্র ৪১ দশমিক ৪৬।

সংখ্যাগুলো একটি নির্দিষ্ট কথা বলছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের কাজ মোটামুটি দক্ষতার সঙ্গেই করছে। নিয়ম-কানুনও ভয়াবহ কিছু নয়। যেখানে ঘাটতি সবচেয়ে বেশি, সেটি হলো রাষ্ট্রের সেবা প্রদান।

অর্থাৎ সমস্যা আইনের বিধানে নয়, বিধান বাস্তবায়নে।


২. এখন কী ঘটে

একটি প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানি গঠনের জন্য একজন উদ্যোক্তাকে কার্যত পাঁচটি আলাদা দপ্তরের সঙ্গে সম্পর্কে যেতে হয়। যৌথমূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তর নাম ছাড়পত্র ও নিবন্ধনের জন্য, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর শনাক্তকরণ নম্বরের জন্য, ভ্যাট কমিশনারেট ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বরের জন্য, সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা ট্রেড লাইসেন্সের জন্য, এবং তফসিলি ব্যাংক হিসাব খোলার জন্য।

বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের ওয়ান স্টপ সার্ভিস প্ল্যাটফর্মে ৩৫টি সরকারি সংস্থা, ১২টি ব্যাংক ও ৫টি চেম্বার যুক্ত রয়েছে, সেবার সংখ্যা ১৩০-এর বেশি। কাঠামোটি দুর্বল নয়। তবু নতুন উদ্যোক্তার অভিজ্ঞতা বদলায়নি, এবং তার তিনটি কারণ চিহ্নিত করা যায়।

প্রথম কারণ: ধাপগুলো ক্রমিক, সমান্তরাল নয়

নিবন্ধন সনদ না পাওয়া পর্যন্ত ব্যাংক হিসাব খোলা যায় না, ব্যাংক হিসাব ছাড়া কিছু ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্সের আবেদন আটকে যায়, আবার ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া ভ্যাট নিবন্ধন সম্পন্ন হয় না। প্রতিটি ধাপ যদি নিজে নিজে দ্রুতও হয়, শৃঙ্খলটি লম্বা হয়ে যায়। তিনটি চার দিনের ধাপ পরপর বসালে বারো দিন, একসঙ্গে চললে চার।

দ্বিতীয় কারণ: সময়সীমা আছে, ব্যত্যয়ের পরিণতি নেই

বিধিমালায় নির্ধারিত দিনসংখ্যা অতিক্রান্ত হলে কী ঘটবে, তা লেখা নেই। আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত বলে গণ্য হয় না, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার জবাবদিহি তৈরি হয় না, আবেদনকারীর হাতে কোনো প্রতিকারও আসে না। পরিণতিহীন সময়সীমা প্রকৃত অর্থে সময়সীমা নয়, প্রত্যাশা মাত্র।

তৃতীয় কারণ: ব্যবস্থাটি বিনিয়োগ প্রকল্পকে ঘিরে সাজানো

ওয়ান স্টপ সার্ভিসের নকশা মূলত শিল্প ও বিনিয়োগ প্রকল্পের জন্য। অথচ প্রতি বছর যত নতুন ব্যবসা নিবন্ধিত হয় তার বড় অংশই সাধারণ দেশীয় ছোট প্রতিষ্ঠান, যাদের কোনো প্রকল্প নিবন্ধন নেই। তাদের জন্য পুরোনো, বিচ্ছিন্ন প্রক্রিয়াটিই কার্যকর থেকে যায়।


৩. এতে খরচ কত

বিলম্বের হিসাব সাধারণত দিনে করা হয়। কিন্তু উদ্যোক্তার কাছে খরচটি কেবল সময়ের নয়।

প্রথমত, সরাসরি ব্যয়। নিবন্ধন ফি, ট্রেড লাইসেন্স ফি, স্ট্যাম্প ও নোটারি, এবং প্রায় সব ক্ষেত্রেই একজন মধ্যস্বত্বভোগীর সম্মানী। প্রক্রিয়াটি যত অস্বচ্ছ, এই শেষ খরচটি তত বেশি। সাধারণ উদ্যোক্তা যখন নিজে ধাপগুলো বোঝেন না, তখন তিনি এমন কাউকে খোঁজেন যিনি বোঝেন, এবং সেই না-বোঝাটাই ব্যয়ে রূপান্তরিত হয়।

দ্বিতীয়ত, স্থগিত কার্যক্রমের ব্যয়। নিবন্ধন শেষ না হওয়া পর্যন্ত ব্যাংক হিসাব নেই, ব্যাংক হিসাব ছাড়া বিনিয়োগ গ্রহণ নেই, আনুষ্ঠানিক চুক্তি নেই, প্রাতিষ্ঠানিক ক্রেতার কাছে বিক্রি নেই। তিন সপ্তাহ ধরে একটি প্রতিষ্ঠান অস্তিত্ব রাখে কিন্তু লেনদেন করতে পারে না। ভাড়া ও বেতনের দায় তত দিনে শুরু হয়ে গেছে।

তৃতীয়ত, এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, অনিবন্ধিত থেকে যাওয়ার প্রবণতা। যে উদ্যোক্তার সামনে তিন সপ্তাহের ভোগান্তি ও অনিশ্চিত ব্যয়, তিনি অনেক সময় সিদ্ধান্ত নেন নিবন্ধন ছাড়াই কাজ চালিয়ে যাওয়ার। ফলে প্রতিষ্ঠানটি ব্যাংকঋণের বাইরে থাকে, কর কাঠামোর বাইরে থাকে, ক্রয়াদেশ ও রপ্তানির সুযোগের বাইরে থাকে। রাষ্ট্র হারায় রাজস্ব, উদ্যোক্তা হারান বৃদ্ধি।

নিবন্ধন প্রক্রিয়ার প্রকৃত ব্যয় তাই যারা নিবন্ধন করেছেন তাদের হিসাবে ধরা পড়ে না। ধরা পড়ে তাদের হিসাবে, যারা করেননি।


৪. প্রস্তাব

নতুন সময়সীমা নির্ধারণের প্রয়োজন নেই। বিদ্যমান সময়সীমা কার্যকর করার ব্যবস্থা প্রয়োজন। পাঁচটি নির্দিষ্ট পদক্ষেপ প্রস্তাব করছি।

  1. নীরব সম্মতির বিধান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত না এলে আবেদনটি অনুমোদিত বলে গণ্য হবে, এবং আবেদনকারী স্বয়ংক্রিয়ভাবে একটি ডিজিটাল প্রত্যয়ন পাবেন। প্রথম পর্যায়ে কেবল নাম ছাড়পত্রের মতো কম ঝুঁকির ধাপে প্রয়োগ করা যেতে পারে। সময়সীমার পরিণতি না থাকলে সময়সীমা মানার প্রণোদনাও থাকে না।
  2. ক্রমিক নয়, সমান্তরাল প্রক্রিয়া। নিবন্ধন সনদ ইস্যুর সঙ্গে সঙ্গে কর শনাক্তকরণ নম্বর, ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর ও ট্রেড লাইসেন্সের আবেদন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে চলে যাবে। উদ্যোক্তাকে একই তথ্য চারবার দিতে হবে না, এবং একটি ধাপের জন্য অন্যটি অপেক্ষা করবে না।
  3. দেশীয় ছোট প্রতিষ্ঠানকে একই কাঠামোর ভেতরে আনা। সময়াবদ্ধ সেবার সুবিধা কেবল বিনিয়োগ প্রকল্পের জন্য সীমিত থাকার যুক্তি নেই। নতুন নিবন্ধিত প্রতিটি কোম্পানিকে ওই একই সময়সীমার আওতায় আনা হোক।
  4. ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ বার্ষিক নয়, স্থায়ী। বার্ষিক নবায়ন কার্যত একটি ফি আদায়ের প্রক্রিয়া, যাচাইয়ের নয়। লাইসেন্স আজীবন বৈধ থাকুক, ফি বার্ষিকভাবে পরিশোধিত হোক, আর তথ্য পরিবর্তন হলে সংশোধনের বাধ্যবাধকতা থাকুক। বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান নিজেই প্রকাশ্যে এই প্রশ্নটি তুলেছেন।
  5. মাসভিত্তিক সম্মতি-প্রতিবেদন প্রকাশ। প্রতিটি দপ্তর প্রতি মাসে জানাবে কতগুলো আবেদন এসেছে, কতগুলো নির্ধারিত সময়ে নিষ্পন্ন হয়েছে, গড়ে কত দিন লেগেছে, এবং সবচেয়ে দীর্ঘ বিলম্বটি কত দিনের ছিল। তথ্য প্রকাশ না হলে সক্ষমতার ঘাটতি ও অনীহার পার্থক্য করা অসম্ভব।

৫. কে করবে, কোন ক্ষমতাবলে

প্রস্তাবিত পাঁচটি পদক্ষেপের চারটির জন্য নতুন আইন প্রণয়নের প্রয়োজন নেই।

  • সমান্তরাল প্রক্রিয়া, তথ্য বিনিময় ও অভিন্ন আবেদনপত্র সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর প্রশাসনিক সমন্বয়ের বিষয়। ওয়ান স্টপ সার্ভিস আইনের কর্তৃত্ব এ ক্ষেত্রে যথেষ্ট
  • সময়াবদ্ধ সেবার পরিধি বাড়ানো যায় বিধি ও প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে
  • সম্মতি-প্রতিবেদন প্রকাশের জন্য কোনো আইনি অনুমোদন লাগে না, কেবল সিদ্ধান্ত লাগে
  • ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের বিধি ও আদর্শ কর তফসিলের বিষয়, যা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় পরিবর্তনযোগ্য
  • কেবল নীরব সম্মতির বিধানটি কার্যকর করতে হলে ওয়ান স্টপ সার্ভিস আইন বা বিধিমালায় স্পষ্ট সংযোজন প্রয়োজন হবে

অর্থাৎ সংসদে যেতে হবে একটিমাত্র বিষয়ে। বাকিটুকু নির্বাহী সিদ্ধান্তে সম্ভব।


৬. কী কী আপত্তি আসবে

প্রস্তাবের বিরুদ্ধে যে যুক্তিগুলো উঠবে, সেগুলো আগেই তুলে ধরা ভালো। তিনটি আপত্তি গুরুত্বপূর্ণ।

আপত্তি ১: নীরব সম্মতি ভুয়া প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়াবে

আশঙ্কাটি অমূলক নয়, তবে এতে একটি ধারণাগত ভুল আছে। নিবন্ধন কোনো আচরণের অনুমোদন নয়, অস্তিত্বের নথিভুক্তি। কোম্পানি নিবন্ধিত হওয়া মানে তার কার্যক্রম বৈধ ঘোষিত হওয়া নয়। প্রতারণার প্রতিকার নিবন্ধন আটকে রাখা নয়, নিবন্ধনোত্তর যাচাই ও কঠোর দণ্ড।

বাস্তব চিত্র বরং উল্টো। বর্তমান ব্যবস্থায় যাচাই মূলত কাগজপত্রের সম্পূর্ণতা দেখা, প্রকৃত অভিপ্রায়ের অনুসন্ধান নয়। ফলে বিলম্ব সৎ উদ্যোক্তাকে ভোগায় এবং অসৎ ব্যক্তিকে আটকায় না। নমুনাভিত্তিক নিবিড় যাচাই, তথ্য মিলিয়ে দেখা এবং ধরা পড়লে দৃষ্টান্তমূলক দণ্ড, এই সমন্বয়টি সবার ওপর অপেক্ষা চাপানোর চেয়ে কার্যকর।

আপত্তি ২: দপ্তরগুলোর সক্ষমতা নেই

সম্ভবত সত্য, এবং এটি স্বীকার করা উচিত। জনবল, প্রশিক্ষণ ও তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোর সীমাবদ্ধতা বাস্তব।

তবে এই আপত্তিটি যাচাইযোগ্য নয় যতক্ষণ না তথ্য প্রকাশিত হয়। কোন দপ্তরে কত আবেদন জমছে, কতজন কর্মী তা নিষ্পন্ন করছেন, কোথায় প্রকৃত বাধা, এসব জানা না গেলে সক্ষমতার দাবি ও অনীহার অজুহাত একই রকম শোনায়। প্রস্তাবের পঞ্চম পয়েন্টটি তাই আলংকারিক নয়। তথ্য প্রকাশিত হলে সক্ষমতার ঘাটতি প্রমাণিত হলে অতিরিক্ত সম্পদ চাওয়ার ভিত্তিও তৈরি হবে।

আপত্তি ৩: ৭২ ঘণ্টা অবাস্তব লক্ষ্য

এই আপত্তির উত্তর সহজ। ৭২ ঘণ্টা প্রস্তাবিত লক্ষ্য নয়, বিদ্যমান বিধিমালা এর চেয়েও কম সময় নির্ধারণ করেছে। প্রশ্নটি নতুন লক্ষ্য বাস্তবসম্মত কি না তা নয়, বরং ইতিমধ্যে ঘোষিত লক্ষ্যটি কেন অর্জিত হচ্ছে না।

যদি প্রকৃতপক্ষে সময়সীমাটি অবাস্তব হয়ে থাকে, তবে সৎ পদক্ষেপ হবে সেটি সংশোধন করে বাস্তবসম্মত সংখ্যা নির্ধারণ করা এবং সেটি মানা। অর্জনযোগ্য নয় জেনেও বিধিতে একটি সংখ্যা রেখে দেওয়া নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধা কমায়।


৭. প্রথম ধাপ: ৯০ দিনে কী করা সম্ভব

আইন সংশোধনের অপেক্ষা না করেও তিনটি কাজ শুরু করা যায়।

  1. সম্মতি-প্রতিবেদন প্রকাশ শুরু করা। নিবন্ধন সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর মাসভিত্তিক পরিসংখ্যান একটি উন্মুক্ত পাতায় প্রকাশ করা হোক। প্রযুক্তিগতভাবে এটি সামান্য কাজ, ফলাফলে তা রূপান্তরকারী।
  2. নথির তালিকা চূড়ান্ত ও গেজেটভুক্ত করা। প্রতিটি ধাপে ঠিক কোন কাগজ লাগবে তা প্রকাশ করে পরিপত্র জারি হোক যে তালিকার বাইরে অতিরিক্ত নথি চাওয়া যাবে না। অনির্দিষ্ট চাহিদা বিলম্ব ও বাড়তি ব্যয়ের প্রধান উৎস।
  3. নাম ছাড়পত্রে নীরব সম্মতির পরীক্ষামূলক প্রয়োগ। ঝুঁকি প্রায় শূন্য, কারণ নাম ছাড়পত্র কোনো অধিকার সৃষ্টি করে না। কার্যকর হলে পরবর্তী ধাপে সম্প্রসারণের ভিত্তি তৈরি হয়।

শেষ কথা

এই সিরিজের প্রথম প্রস্তাবটি লিখতে গিয়ে দেখেছিলাম, যেটি প্রস্তাব করতে চেয়েছিলাম সেটি ইতিমধ্যেই চালু হয়ে গেছে। দ্বিতীয়টিতে এসে অভিজ্ঞতা কিছুটা ভিন্ন, তবে অপরিচিত নয়। এখানে বিধান আছে, সময়সীমা আছে, প্ল্যাটফর্ম আছে। যা নেই তা হলো ব্যত্যয়ের পরিণতি ও কার্যক্রমের প্রকাশ্য পরিমাপ।

আমাদের প্রশাসনিক সংস্কার আলোচনার একটি পুরোনো অভ্যাস হলো, প্রতিটি সমস্যার উত্তরে নতুন আইন বা নতুন কর্তৃপক্ষ চাওয়া। অথচ বহু ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় বিধান আগে থেকেই বিদ্যমান, কেবল তা মানা হচ্ছে কি না তা কেউ গুনছে না।

গোনা শুরু হলে অনেক কিছু বদলায়। কারণ যা পরিমাপ করা হয় না, তার জন্য কাউকে জবাব দিতেও হয় না।

সংশোধনী

এই প্রস্তাবে পাঠকের যুক্তিতে কিছু পরিবর্তিত হলে তারিখসহ এখানে যুক্ত করা হবে। এ পর্যন্ত কোনো সংশোধনী নেই।

এই লেখাটি সাধারণ আলোচনা ও মতামত, কোনো নির্দিষ্ট বিষয়ে আইনি পরামর্শ নয়। এটি পড়ার মাধ্যমে আইনজীবী-মক্কেল সম্পর্ক তৈরি হয় না। পরিসংখ্যান ও সময়সীমা প্রকাশিত সরকারি তথ্য ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে নেওয়া এবং প্রকাশের তারিখ পর্যন্ত হালনাগাদ। আইন, বিধি ও ফি সময়ে সময়ে পরিবর্তিত হয়।

Similar Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *