গুজব কী, ঠিক করবে কে? ১০ বছরের জেলের খসড়াটা পড়লাম
সংক্ষিপ্ত উত্তর: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত “গুজব” ছড়ানোর জন্য ১০ বছরের জেল কোনো চালু আইন নয়। এটা সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর একটি সংশোধনীর খসড়া। আর “গুজব কী” প্রশ্নের যে উত্তর খসড়া দিয়েছে, সেটাই আসল সমস্যা: পত্রিকায় উদ্ধৃত সংজ্ঞা অনুযায়ী যেকোনো “অসমর্থিত বা অযাচাইকৃত” তথ্য, যা মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি, আতঙ্ক, উত্তেজনা বা অস্থিরতা তৈরি করে বা করতে পারে।
কোন তথ্য যাচাই হয়েছে আর কোনটা হয়নি, সেটা কে ঠিক করবেন, খসড়ার উদ্ধৃত অংশে তার উত্তর নেই। বাস্তবে প্রথম সিদ্ধান্তটা নেবেন যিনি অভিযোগ নেবেন, মামলা করবেন বা কনটেন্ট ব্লক করবেন। আদালতের কাছে প্রশ্নটা পৌঁছাতে পৌঁছাতে অভিযুক্ত হয়তো কয়েক মাস জামিনের দরখাস্ত নিয়ে ঘুরবেন।
খসড়ার যে অংশগুলো সংবাদমাধ্যমে উদ্ধৃত হয়েছে, সেগুলো আমি চালু আইনের পাশে রেখে পড়লাম। সংজ্ঞাটা পড়ে প্রথমেই মনে হলো আবহাওয়ার পূর্বাভাসের কথা। পূর্বাভাসও তো ঘটনার আগে যাচাই করা যায় না, আর “ঘূর্ণিঝড় আসছে” শুনলে মানুষ আতঙ্কিত হয়। ভাগ্য ভালো, আবহাওয়া অফিস সাধারণত ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে মামলা খায় না।
মূল কথা
- গুজবের জন্য ১০ বছর জেল বা ৪০ লাখ টাকা জরিমানার প্রস্তাবটি এখনো খসড়া, আইন নয়।
- খসড়ায় মানহানির শাস্তি সর্বোচ্চ ৫ বছর বা ২০ লাখ টাকা; ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ছিল ৩ বছর বা ৫ লাখ।
- “অযাচাইকৃত” শব্দটি অপরাধের সীমা ঠিক করার ভার আইনপ্রয়োগকারীর হাতে তুলে দেয়।
- অপরাধে সহায়তাকারীর একই শাস্তির বিধান চালু আইনেই আছে, তাই শেয়ার করার আগেও যাচাই দরকার।
এখন কোন আইন চালু, আর কোনটা খসড়া?
নাম নিয়ে বিভ্রান্তি আছে, কারণ ইংরেজি পত্রিকাগুলো কখনো Cyber Security Act, কখনো Cyber Protection Act লিখছে। সরকারি আইন-ওয়েবসাইট bdlaws-এ নাম একটাই: সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৮১ নং আইন)। এর সূত্রপাত অন্তর্বর্তী সরকারের সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৫ থেকে। ১০ এপ্রিল ২০২৬ অধ্যাদেশটি রহিত করে আইন হিসেবে গৃহীত হয়।
ধাপগুলো পরপর সাজালে দাঁড়ায় এমন:
- চালু: সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬, কার্যকর ১০ এপ্রিল ২০২৬।
- চালু সংশোধনী: ৩০ জুন ২০২৬ সংসদে সাইবার সুরক্ষা (সংশোধন) বিল কণ্ঠভোটে পাস হয়। ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন অনুযায়ী এতে আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মকে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিতর্কিত কনটেন্ট সরানোর বাধ্যবাধকতা এবং বিটিআরসিসহ ক্ষমতাপ্রাপ্ত সংস্থাকে কনটেন্ট ব্লক ও ব্যবহারকারীর তথ্য চাওয়ার ক্ষমতা দেওয়া হয়।
- খসড়া: সেপ্টেম্বরে আরেকটি সংশোধনীর খসড়া তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের ওয়েবসাইটে প্রকাশ হয়। ১০ সেপ্টেম্বর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে এ নিয়ে মতবিনিময় সভা হয়। ১০ বছরের জেলের প্রস্তাব এই খসড়াতেই। ১৪ সেপ্টেম্বর অনলাইনে প্রকাশ করে সপ্তাহখানেক মতামত নেওয়া হয়। ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এটি সংসদে ওঠেনি, সরকারের পরবর্তী সিদ্ধান্তের খবরও পাইনি।
দ্য ডেইলি স্টারের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চালু আইনে মানহানি আলাদা সাইবার অপরাধ হিসেবে নেই। খসড়া সেটা ফিরিয়ে আনবে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের (ডিএসএ) চেয়েও কড়া শাস্তিসহ। অর্থাৎ এই মুহূর্তে অনলাইনে মানহানির অভিযোগ মূলত দণ্ডবিধির আওতায় পড়ে। খসড়া পাস হলে সেটা বদলাবে।
খসড়ায় ঠিক কী প্রস্তাব করা হয়েছে?
প্রথম আলো, দ্য ডেইলি স্টার ও দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের প্রতিবেদন মিলিয়ে খসড়ার মূল প্রস্তাবগুলো এমন:
- নতুন ধারা ২৬ক (খসড়া): সাইবার স্পেসে গুজব ও অপতথ্য প্রকাশ বা প্রচার। সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ড, বা ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত জরিমানা, বা উভয় দণ্ড।
- ধারা ২৫-এর সম্প্রসারণ (খসড়া): মানহানি, হেয়প্রতিপন্ন করা ও বুলিং যুক্ত হবে। সর্বোচ্চ ৫ বছর বা ২০ লাখ টাকা বা উভয়। ভুক্তভোগী নারী বা ১৮ বছরের কম বয়সী হলে সর্বোচ্চ ১০ বছর বা ৪০ লাখ টাকা।
- ব্লকের ক্ষমতা (খসড়া): কনটেন্ট সরানো বা ব্লকের অনুরোধ এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী করতে পারে। খসড়ায় এটা তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সরকার-ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য যেকোনো সংস্থা বা বাহিনী পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব আছে।
- প্রতিষ্ঠানের শাস্তি (খসড়া): আইন ভাঙলে কোম্পানির নিবন্ধন বা লাইসেন্স স্থগিত বা বাতিলের সুযোগ। সিপিজে মনে করছে, এটা সংবাদমাধ্যমের ওপরও প্রযোজ্য হতে পারে।
- ভ্রাম্যমাণ আদালত (খসড়া): ভুক্তভোগী নারী বা শিশু না হলে মানহানি, বুলিংসহ কিছু অপরাধ মোবাইল কোর্টে বিচারের প্রস্তাব।
সরকারের যুক্তিটাও তাদের ভাষায় জানা দরকার। প্রথম আলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী নীতিনির্ধারকেরা বলছেন, এআই দিয়ে বানানো ভুয়া ভিডিও, অডিও ও বিভ্রান্তিকর ছবির বিস্তার ঠেকাতেই কড়া শাস্তি। ডেইলি স্টার জানিয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, গঠনমূলক সমালোচনা আর চরিত্রহনন বা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে গালাগাল এক জিনিস নয়, এবং সাংবাদিকদের সুরক্ষার ব্যবস্থাও থাকবে। সমস্যা হলো, এই পার্থক্যটা মন্ত্রীর বক্তব্যে আছে, কিন্তু উদ্ধৃত সংজ্ঞায় খুঁজে পাইনি।
“অযাচাইকৃত” শব্দটা এত বিপজ্জনক কেন?
ফৌজদারি আইনের একটা পুরোনো নিয়ম আছে: অপরাধের সংজ্ঞা এমন হতে হবে, যাতে একজন সাধারণ মানুষ কাজটা করার আগেই বুঝতে পারেন, সেটা অপরাধ কি না। “অযাচাইকৃত” শব্দ এই পরীক্ষায় টেকে না। যাচাই কে করবে, কোন মানদণ্ডে, কত দিনের মধ্যে, সেটা পোস্টদাতা আগে থেকে জানতে পারেন না।
ঝামেলা আরও আছে। উদ্ধৃত সংজ্ঞায় “তৈরি করতে পারে” কথাটা আছে। মানে বাস্তবে কোনো ক্ষতি হওয়া জরুরি নয়, সম্ভাবনাই যথেষ্ট। আবার সংজ্ঞাটা তথ্যের অবস্থা বর্ণনা করে (অসমর্থিত, অযাচাইকৃত), পোস্টদাতা জেনেশুনে মিথ্যা বলছেন কি না, সেটা এর কেন্দ্রে নেই। সাংবাদিকতার প্রতিদিনের কাজই শুরু হয় অসমর্থিত তথ্য দিয়ে: “সূত্র জানায়”, “অভিযোগ উঠেছে”। বাজারে কোনো পণ্যের সংকট নিয়ে প্রথম খবরটাও অনেক সময় সরকারি নিশ্চয়তা পাওয়ার আগেই আসে।
শাস্তির অনুপাতটাও দেখার মতো। চালু আইনের ধারা ২৬ অনুযায়ী ধর্মীয় বা জাতিগত ঘৃণামূলক বক্তব্য, যা সহিংসতা তৈরি করে, তার সর্বোচ্চ শাস্তি ২ বছর কারাদণ্ড বা ১০ লাখ টাকা। খসড়ায় যাচাই না হওয়া তথ্য, যা বিভ্রান্তি “তৈরি করতে পারে”, তার শাস্তি ১০ বছর পর্যন্ত। সর্বোচ্চ সাজার হিসাবে সহিংসতায় উসকানির চেয়ে যাচাই না হওয়া খবর পাঁচ গুণ গুরুতর। আইনের খাতায় এমন হিসাব টেকানো কঠিন।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি), টেক গ্লোবাল ইনস্টিটিউটসহ ১৯টি নাগরিক সংগঠন এই অস্পষ্ট শব্দগুলোর কথাই তুলেছে। তারা খসড়া প্রত্যাহার করে সময়সীমা বেঁধে অংশীজনদের সঙ্গে পরামর্শের দাবি জানিয়েছে। সিপিজে মনে করিয়ে দিয়েছে, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের সময় ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে অন্তত ২৫৫ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল।
মানহানি আইনের চোখে আসলে কী?
চেম্বারে এই প্রশ্ন প্রায়ই আসে: কারও সমালোচনা করলেই কি মানহানি? না। দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারা মানহানির সংজ্ঞা দেয়, আর সঙ্গে দেয় দশটি ব্যতিক্রম (exceptions)। এর কয়েকটি প্রতিদিনের কাজে লাগে:
- প্রথম ব্যতিক্রম: সত্য কথা, যা জনস্বার্থে বলা বা প্রকাশ করা প্রয়োজন।
- দ্বিতীয় ব্যতিক্রম: সরকারি কর্মচারীর সরকারি দায়িত্ব পালন নিয়ে সরল বিশ্বাসে মতামত।
- তৃতীয় ব্যতিক্রম: জনগুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে কারও আচরণ নিয়ে সরল বিশ্বাসে মতামত, যাকে সাধারণভাবে ন্যায্য মন্তব্য (fair comment) বলা হয়।
- নবম ব্যতিক্রম: নিজের বা অন্যের স্বার্থ রক্ষায় সরল বিশ্বাসে করা অভিযোগ।
দণ্ডবিধির ৫০০ ধারায় মানহানির শাস্তি সর্বোচ্চ ২ বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড, বা জরিমানা, বা উভয়। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২৯ ধারায় প্রথমবারের অপরাধে ছিল সর্বোচ্চ ৩ বছর বা ৫ লাখ টাকা। ২০২৩ সালের সাইবার নিরাপত্তা আইন কারাদণ্ড তুলে দিয়ে শুধু জরিমানা রেখেছিল, সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা। খসড়া এখন আবার কারাদণ্ডে ফিরছে, এবং সেটা ৫ বছর পর্যন্ত।
খসড়ায় “ডিজিটাল মানহানি”-র যে সংজ্ঞা ডেইলি স্টার উদ্ধৃত করেছে, তাতে তথ্যটি মিথ্যা, বিকৃত, বিভ্রান্তিকর, অপমানজনক বা ক্ষতিকর হতে পারে। “বা” শব্দটা খেয়াল করুন। কোনো কথা পুরোপুরি সত্য হলেও “অপমানজনক” হলে এই ভাষায় আটকে যেতে পারে। দণ্ডবিধির সত্য-ও-জনস্বার্থের ব্যতিক্রম খসড়ার এই ধারায় প্রযোজ্য হবে কি না, প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো থেকে তা স্পষ্ট নয়। আইনে এটা স্পষ্ট করে লেখা না থাকলে প্রতিটি মামলায় আদালতে গিয়ে তর্ক করতে হবে।
শেয়ার করলেও কি দায় আসে?
চালু আইনের ২৭ ধারায় আগে থেকেই বলা আছে, আইনের অধীন কোনো অপরাধে সহায়তা করলে সহায়তাকারী মূল অপরাধের সমান দণ্ড পাবেন। এই বিধান নতুন নয়। নতুন হলো এর সঙ্গে গুজবের মতো অস্পষ্ট অপরাধ যোগ হওয়া। আজকের পত্রিকা ও হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, খসড়ায় কনটেন্ট শেয়ারকারীর শাস্তিও মূল নির্মাতার সমান হওয়ার ঝুঁকি আছে। একটা ভুয়া ভিডিও শেয়ার করা আর সেটা বানানো আইনের চোখে একই কাতারে দাঁড়াতে পারে।
পোস্ট বা শেয়ারের আগে কী যাচাই করবেন?
খসড়া আইন হবে কি না, হলে কোন চেহারায়, তা এখনো অনিশ্চিত। কিন্তু দণ্ডবিধির মানহানি আর চালু সাইবার আইন দুটোই এখন কার্যকর। তাই এই অভ্যাসগুলো আজ থেকেই কাজে লাগবে:
- উৎস কে? নাম-পরিচয়সহ প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি, নাকি “শুনলাম”, “ইনবক্সে এসেছে”?
- দ্বিতীয় স্বাধীন সূত্র মিলছে? একই খবর অন্তত দুটি নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যমে আছে কি না দেখুন।
- ছবি ও ভিডিও পুরোনো বা বানানো কি না: রিভার্স ইমেজ সার্চ করুন, তারিখ দেখুন। এআই-এ বানানো কনটেন্ট খসড়ার সংজ্ঞাতেই আছে।
- তথ্য আর মতামত আলাদা করুন: “এটা ঘটেছে” আর “আমার মনে হয় এটা অন্যায়” আইনের চোখে আলাদা জিনিস।
- কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ হলে: প্রমাণ হাতে আছে কি? জনস্বার্থ কোথায়? নাম না দিয়েও কি বিষয়টা বলা যায়?
- শুধু শিরোনাম দেখে শেয়ার নয়: পুরো লেখা পড়ুন। অনেক শিরোনাম ভেতরের খবরের সঙ্গে মেলে না।
- ভুল ধরা পড়লে দ্রুত মুছুন ও সংশোধনী দিন: কখন মুছলেন, তার স্ক্রিনশট রাখুন। সরল বিশ্বাস প্রমাণে এটা কাজে লাগে।
খসড়াটা কীভাবে ঠিক করা যায়?
এআই দিয়ে বানানো ভুয়া ভিডিওর সমস্যা বাস্তব। কাউকে পরিকল্পিতভাবে অনলাইনে হেনস্তা করাও বাস্তব। সমস্যাটা উদ্দেশ্যে নয়, মুসাবিদায় (drafting)। পুরোনো একটা কথা আছে, আইন হলো এমন জাল যাতে ছোট মাছ আটকায় আর বড় মাছ ছিঁড়ে বেরিয়ে যায়। অস্পষ্ট জাল তার চেয়েও খারাপ: কোন মাছ আটকাবে, সেটা ঠিক করেন জেলে।
চারটি সংশোধন করলে খসড়ার উদ্দেশ্যও টেকে, নাগরিকের সুরক্ষাও থাকে:
- “অসমর্থিত বা অযাচাইকৃত” বাদ দিয়ে লিখুন “জেনেশুনে মিথ্যা”, এবং বাস্তব ও আসন্ন ক্ষতির প্রমাণ বাধ্যতামূলক করুন।
- মানহানির ধারায় দণ্ডবিধি ৪৯৯-এর ব্যতিক্রমগুলো স্পষ্টভাবে প্রযোজ্য করুন, আর মোবাইল কোর্টকে এর বাইরে রাখুন।
- প্রতিটি ব্লক আদেশ একটি প্রকাশ্য রেজিস্টারে তুলুন, যাঁর কনটেন্ট তাঁকে নোটিশ দিন, আর আপিলের পথ রাখুন।
- শাস্তির অনুপাত ঠিক করুন: সহিংসতায় উসকানির চেয়ে ভুল তথ্যের শাস্তি বেশি হতে পারে না।
খসড়া এখনো মতামতের পর্যায়ে। মন্ত্রিসভায় পাঠানোর আগে প্রথম সংশোধনটা হওয়া দরকার ২৬ক ধারার সংজ্ঞায় “অযাচাইকৃত” শব্দের জায়গায় “জেনেশুনে মিথ্যা” বসানো। ১০ বছরের শাস্তি কাকে দেওয়া যাবে, সেটা এই এক শব্দের ওপর নির্ভর করছে।
তথ্যসূত্র
- দ্য ডেইলি স্টার, “Cyber security act: Draft changes echo DSA-era restrictions”, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ — লিংক
- প্রথম আলো (ইংরেজি), “Cyber Security (Amended) Act: 10 years’ imprisonment for spreading rumours, disinformation”, ৩০ জুলাই ২০২৬ — লিংক
- সিপিজে, “Bangladeshi journalists face 10-year jail terms for ‘unverified’ reporting under draft cybercrime law”, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬ — লিংক
- দ্য ডেইলি স্টার, “Draft law may enable repression, surveillance: TIB”, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ — লিংক
- দ্য ডেইলি স্টার, “Civil society organisations voices concern over proposed Cyber Protection Act amendments”, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ — লিংক
- ঢাকা ট্রিবিউন, “Cyber security amendment bill, 2026 passes in parliament”, ৩০ জুন ২০২৬ — লিংক
- বাংলাদেশ আইন ওয়েবসাইট (bdlaws), সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ (২০২৬ সনের ৮১ নং আইন) — লিংক
- বাংলাদেশ আইন ওয়েবসাইট (bdlaws), ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮, ধারা ২৯ — লিংক
- দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড, “Rights groups urge Bangladesh to withdraw draft cyber law amendment”, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ — লিংক
হালনাগাদ, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬: খসড়ার সর্বশেষ অবস্থা যোগ; মন্ত্রীর নামের বদলে পদ ব্যবহার।
এই লেখা সাধারণ আইনি ও নীতিগত তথ্য, আইনি পরামর্শ নয়। তথ্য ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ পর্যন্ত হালনাগাদ। নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে একজন আইনজীবীর পরামর্শ নিন।

অ্যাকাউন্ট থাকলে প্রতিবার তথ্য লিখতে হয় না, আর মন্তব্য সঙ্গে সঙ্গে প্রকাশিত হয়। লগইন বা নিবন্ধন করুন